প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির PI মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪

প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির PI মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির মূল্যায়ন নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৩ সালে ১ম শ্রেণির মূল্যায়ন ছিলো ডায়েরি ১ ও ডায়েরি ২ এর মাধ্যমে। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে ৩ মাস পর অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হলো। নতুন এই পদ্ধতিটির নাম PI পদ্ধতি। পদ্ধতিটি বিস্তারিত জানতে নিচে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করুন।

প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের PI মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪


এনসিটিবি প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির PI মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪ প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় PDF এর সাথে সাথে এবার ভিডিও টিউটোরিয়াল দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় একটি কাজ। 

যেহেতু NCTB কর্তৃক ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়েছে তাই মূল্যায়ন নির্দেশিকাও এই তিন শ্রেণির জন্য দেওয়া হয়েছে। ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির কারিকুলাম পরিবর্তন করা হয়ে ২০২৫ সালে।  সে অনুযায়ী ২০২৫ সালে এই দুই শ্রেণির মূল্যালয় পরিবর্তন আনা হবে।


PI মূল্যায়ন ২০২৪ কেমন হবে

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুসারে সকল ধরণের শিখন মূল্যায়নের ভিত্তি হলো যোগ্যতা। কাজেই ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতা পরিমাপ করার লক্ষ্যে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে যা শিখছে তা বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কিত প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করে তাদের পারদর্শিতা প্রদর্শন করবে। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের এই পারদর্শিতাই মূল্যায়ন করবেন। এ নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও পারদর্শিতা মূল্যায়নের পদ্ধতি ধাপে ধাপে বর্ণিত হয়েছে।
মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকগণ যেসকল বিষয় বিবেচনায় নিবেন-

  1. বিষয়গত জ্ঞান মুখস্ত করে মনে রাখা নয় বরং অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে প্রয়োগের যোগ্যতা অর্জনই শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই শিক্ষার্থীরা কী মাত্রায় এ যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে তার ভিত্তিতেই তাকে মূল্যায়ন করা হবে; 
  2. নম্বরভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে যোগ্যতা মূল্যায়নের ফলাফল হিসেবে শিক্ষার্থীরা কী পারছে তার বর্ণনা থাকবে;
  3. শ্রেণিভিত্তিক অর্জনোপযোগী যোগ্যতাকে বিবেচনায় রেখে অধ্যায়গুলোতে বিভিন্ন কাজ রাখা হয়েছে। এ সকল কাজ চলাকালীন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ (সামগ্রিক আচরণ) পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষক প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্যের আলোকে সাধারণভাবে প্রতি অধ্যায় শেষে অথবা প্রয়োজনভেদে শ্রেণিভিত্তিক অর্জনোপযোগী যোগ্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট পারদর্শিতার নির্দেশক অনুযায়ী শিক্ষার্থীর অর্জনোপযোগী যোগ্যতা অর্জনের মাত্রা রেকর্ড করবেন;
  4. শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো বিনামূল্যের, স্বল্পমূল্যের অথবা পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিসাইকেল) উপাদান দিয়ে তৈরি/সংগ্রহের বিষয়ে সচেষ্ট হবেন এবং শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করবেন। উপকরণের ব্যয়ভার শিক্ষার্থীর উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না;
  5. মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে শিখনকালীন। শিক্ষক বছরে দুইবার (ষাণ্মাসিক ও বাৎসরিক) শিক্ষার্থীর অগ্রগতি রিপোর্ট প্রদান করবেন। শিক্ষার্থীর পুরো বছরের রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হবে;

২০২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির শিখনকালীন মূল্যায়ন পরিচালনায় শিক্ষকের করণীয়
শিক্ষার্থীরা কোনো শিখন যোগ্যতা অর্জনের পথে কতটা অগ্রসর হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে প্রতিটি অর্জনোপযোগী যোগ্যতার জন্য এক বা একাধিক পারদর্শিতার নির্দেশক (Performance Indicator, PI) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি পারদর্শিতার নির্দেশকের আবার তিনটি মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষক মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার ভিত্তিতে এই নির্দেশকে তার অর্জিত মাত্রা নির্ধারণ করবেন। প্রথম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের যোগ্যতাসমূহের বিপরীতে পারদর্শিতার নির্দেশকসমূহ এবং তাদের তিনটি মাত্রা পরিশিষ্ট-১ এ দেওয়া আছে। প্রতিটি পারদর্শিতার নির্দেশকের তিনটি মাত্রাকে মূল্যায়নের তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে 'Good', 'Very Good', ‘Excellent' শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। পারদর্শিতার নির্দেশকের অর্জিত মাত্রার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অর্জনের মাত্রা নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, প্রথম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সহায়িকায় প্রতিটি ইউনিটে এক/একাধিক অর্জনোপযোগী যোগ্যতার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধ্যায় শেষে পারদর্শিতার নির্দেশকসমূহ এবং তাদের তিনটি মাত্রা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক এই নির্দেশিকার পরিশিষ্ট-১ অনুসরণ করবেন।
প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের PI মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৪




ক) শিখনকালীন মূল্যায়ন

√ এই মূল্যায়ন শিখন কার্যক্রম চলাকালে পরিচালিত হবে।

√ শিখনকালীন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যায় শেষে প্রদত্ত অর্জনোপযোগী যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত পারদর্শিতার নির্দেশক বা PI (পরিশিষ্ট-১ দেখুন) ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শিখনকালীন মূল্যায়ন রেকর্ড করবেন। শিক্ষার্থীদের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সুবিধার্থে পরিশিষ্ট-২ এ একটি ফাঁকা ছক দেওয়া আছে। এই ফাঁকা ছকে নির্দিষ্ট অধ্যায়/পাঠের নাম ও প্রযোজ্য PI নম্বর লিখে ধারাবাহিকভাবে সকল শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের তথ্য রেকর্ড করতে হবে।

√ শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট PI এর জন্য প্রদত্ত তিনটি মাত্রা থেকে প্রযোজ্য মাত্রাটি নির্ধারণ করে 'Good', 'Very Good', অথবা 'Excellent' [সংক্ষেপে G. V. E] এর মধ্যে প্রযোজ্যটিতে টিক চিহ্ন দিবেন। এখানে ‘Good’/‘ভালো” দ্বারা ‘Beginner’/‘প্রারম্ভিক’; ‘Very Good”/“খুব ভালো' দ্বারা ‘Intermediate'/'মধ্যবর্তী' এবং ‘Excellent’/‘অতি উত্তম’ দ্বারা ‘Expert’/‘পারদর্শী' স্তর বুঝানো হয়েছে। শিক্ষার্থীর অর্জনোপযোগী যোগ্যতা মূল্যায়নের রেকর্ড হার্ডকপি/সফটকপিতে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে পরিশিষ্ট-২ এ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

√  শিখনকালীন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক যেসকল প্রমাণক (পাঠ্যপুস্তক, কর্মপত্র, ছবি, প্রজেক্ট, এসাইনমেন্ট ইত্যাদি) এর সাহায্যে পারদর্শিতার নির্দেশকে শিক্ষার্থীর অর্জনের মাত্রা নিরূপণ করেছেন সেগুলো শিক্ষাবর্ষের শেষ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন।

খ) শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে করণীয়

√  যেহেতু প্রথম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে, তাই যদি কোনো শিক্ষার্থী শিখন কার্যক্রম চলাকালীন আংশিক সময় বা পুরোটা সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে তাহলে ঐ শিক্ষার্থীকে ঐ যোগ্যতাটি অর্জন করানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাময়মূলক
পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।


গ) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি (Inclusion) বিষয়ক নির্দেশনা

মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চর্চা করার সময় জেন্ডার বৈষম্যমূলক ও মানব বৈচিত্র্য রক্ষার পরিপন্থী কোনো কৌশল বা নির্দেশনা ব্যবহার করা যাবেনা। যেমন- নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, লিঙ্গবৈচিত্র্য ও জেন্ডার পরিচয়, সামর্থ্যের বৈচিত্র্য, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদির ভিত্তিতে কাউকে আলাদা কোনো কাজ না দিয়ে সকলকে বিভিন্নভাবে তার পারদর্শিতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিতে হবে। এর ফলে, কোনো শিক্ষার্থীর যদি লিখিত বা মৌখিক ভাব প্রকাশে চ্যালেঞ্জ থাকে তাহলে সে বিকল্প উপায়ে শিখন যোগ্যতার প্রকাশ ঘটাতে পারবে। একইভাবে, কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রচলিত ভাবে ব্যবহৃত মৌখিক বা লিখিত ভাব প্রকাশে স্বচ্ছন্দ না হয়, তবে সেও পছন্দমত উপায়ে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারবে।
√ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর বিশেষ কোনো শিখন চাহিদা থাকলে শিক্ষক তার সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান থাকেন এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কাজেই এ ধরণের শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দক্ষতা/আগ্রহ/সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে তাদের শিখন উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন