পিটিএ কমিটি গঠনের নীতিমালা Teachers Parents Association

পিটিএ কমিটি গঠনের নীতিমালা Teachers Parents Association
পিটিএ কমিটি গঠনের নীতিমালা



প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক অভিভাবক সমিতি অর্থাৎ Pta কমিটি গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এটি অনেক ভূমিকা রাখে।  শিক্ষকদের জবাবদিহিতার জন্য এটি প্রয়োজন।  Pta কমিটি এর কারণে বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা বা কাজ সংঘটিত হয়না।  শিক্ষক অভিভাবক সমিতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতার সাথে সাথে বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


{tocify} $title={Table of Contents}


স্কুল ম্যানেজিং কমিটি অর্থাৎ SMC কমিটির মতোই পিটিএ কমিটি তে সভাপতি সহ সভাপতি একজন শিক্ষক ও কয়েকজন সদস্য থাকে।  শিক্ষক অভিভাবক সমিতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝরেপড়া হার রোধ করতে সাহায্য করে সেই সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয় বাইরে থেকে অনুদান নিয়ে আসতে সাহায্য করে। Teachers Parents Association এর কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের সাথে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। 


Pta এর গঠন সম্পর্কে অনেকেই ধারণা রাখেন না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিএ কমিটি গঠন নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পিটিএ কমিটি গঠনের জন্য কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট নিয়ম কারণ গুলো মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিভাবক কমিটি গঠন করতে হবে। আমরা যারা পিটিএ কমিটি গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না তাদের জন্য আজকের পোস্টটি ফলপ্রসূ হতে চলেছে। আমরা আজকে জানবো

  • পিটিএ কি
  • পিটিএ কমিটি গঠনের নীতিমালা
  • শিক্ষক অভিভাবক সমিতি এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • পিটিএ নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য
  • পিটিয়ে কমিটির মেয়াদকাল
  • PTA ও SMC কমিটি এর মধ্যে সম্পর্ক
$ads={1}

শিক্ষক অভিভাবক সমিতি (পিটিএ)

বিষয়: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি পুনর্গঠন

নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-শঃ১০/১০এম-৫/৮২/পার্ট-২/৪৪৭-শিক্ষা, তারিখ:-২৪.০৬.৮৪ইং মূলে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে উক্ত সার্কুলারের আলোকে গঠিত শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির কর্মকান্ড স্তিমিত এবং বেশি ভাগ স্কুলে এর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ইত্যাদির সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবকদেরকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে “বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী” সফল ভাবে বাস্তবায়ন প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং প্রতিটি বিদ্যালয়কে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে 

পিটিএ কমিটি গঠনের নীতিমালা

শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি নিম্মোক্তভাবে পুনর্গঠন করা হলোঃ

ক. প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার ৩-১২ বছর বয়সী সকল শিশুর পিতা-মাতা/অভিভাবক এবং সকল শিক্ষক, “শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির” প্রাথমিক সদস্য থাকবেন।

খ. পুনর্গঠিত শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির নির্বাহী কমিটি নিম্নরূপ হবে:

  1. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য 一 সভাপতি
  2. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য一সহ-সভাপতি
  3. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (পদাধিকার বলে) সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য 一সদস্য সচিব
  4. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন শিক্ষক 一সদস্য
  5. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত তিনজন পুরুষ অভিভাবক  -সদস্য
  6. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত তিনজন মহিলা অভিভাবক -সদস্য
$ads={1}

গ. শিক্ষক -অভিভাবক সমিতির সাধারণ সভা বছরে অন্ততঃ দু’বার অনুষ্ঠিত হবে।

ঘ. নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভায় নির্বাহী কমিটির আমন্ত্রণক্রমে উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগরে কর্মকর্তাগণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, সরকারী দপ্তরসমুহের মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কর্মীসহ অন্যান্য বিদ্যোৎসাহী কর্মীসহ অন্যান্য বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

২। সমিতি গঠনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যঃ

  1. শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
  2. শিক্ষক-অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে শিক্ষার গুণগত মনোনয়নের জন্য গৃহীত উদ্যোগকে জোরদার করা।
  3. বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ডে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা।
  4. তৃণমুল পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।
  5. শিক্ষক-অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কতৃব্যের মূল্যায়ন করা।
  6. স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করা
  7. কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন।
$ads={1}

৩।  নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

  1. বিদ্যালয় এলাকায় জরীপ কাজ পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করা। বিদ্যালয় গমনোপযোগী শিশুদের বিদ্যালয়ে আনা ও ঝড়ে পড়া রোধ সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।
  2. শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
  3. বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কল্যাণ সমিতি গঠন ও সম্পদ সংগ্রহ করা।
  4. স্কুল পরিবেশকে মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সংগে সহযোগিতা করা যাতে শিশুরা নিরাপদ, সুস্থ ও আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়।
  5. অভিভাবকগণ নিজেদের সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যেরূপ যত্নবান হবেন, পাড়া-প্রতিবেশীদের সšানাদির লেখাপড়ার প্রতিও যাদে সমান গুরুত্ব সহকারে সহযোগীতা করতে পারেন সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা।
  6. প্রয়োজনবোধে বিদ্যালয়গৃহ মেরামত করা, বিদ্যালয়ের অংগন পরিস্কার রাখা এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  7. শিশুদের মধ্যে মানবিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতাবোধ আনয়নের জন্য চেষ্ঠা করা।
  8. বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকার সহ-পাঠ্যক্রমিক কাজে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদান করা এবং সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা।
  9. প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এলাকার সকল পেশাজীবী মানুষ এবং স্থানীয় এলাকাবাসীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
  10. বিদ্যালয় ত্যাগের কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যালয় ত্যাগ রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
  11. উন্নত ধরণের হাঁস মুরগী পালন, শাক-সবজী চাষ এবং ফলমূল উৎপাদন ও সমবায় কর্মকান্ডের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের পিতামাতার জীবিকার উন্নতি সাধনে সাহায্য করা।
  12. বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস ও সমবায়ী মনোভাব গড়ে তোলা।
  13. শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী হোম ভিজিট কর্মকান্ডে সহায়তা প্রদান করা।
  14. ক্লাষ্টার ট্রেনিং আয়োজনে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদেরকে সহযোগিতা করা।
  15. বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের জন্য সহায়ক তথ্য শীর্ষক পুস্তিকায় উলে¬খিত মা সমাবেশ ও অভিভাবক সমাবেশ উঠান বৈঠক (শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সাব কমিটি কর্তৃক) গৃহ পরিদর্শন প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করা।
  16. গৃহে অভিভাবকগণ যাতে শিশুদের লেখা পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা।
  17. স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা ও সামাজিক মালিকানার ধারণা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

০৪। নির্বাহী কমিটির মেয়াদঃ

        নির্বাহী কমিটি ০৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হবে। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে ০৩ বছর কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হবার ৩০ দিন পূর্বে কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে পুরাতন/বিদ্যমান কমিটির দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবার ০৭ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

০৫। শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সম্পর্কঃ
$ads={1}

  1. ম্যানিজিং কমিটির সিদ্ধাš, শিক্ষক অভিভাবক সমিতির সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।
  2. শিক্ষক অভিভাবক সমিতির চেয়ারম্যান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভায় যোগদান করতে পারেন।
  3. স্কুলের উন্নয়নমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি যৌথভাবে কাজ করতে পারেন।
  4. কমপক্ষে বছরে ০৩ বার উভয় কমিটির যুগ্ম-সভা আহবান করে আলোচনার মাধ্যমে স্কুলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
  5. ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি একে অপরের সম্পূরক হিসেবে স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজে সার্বিক সহযোগিতা করতে পারে।
  6. উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি গঠনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন
  7. আগামী ৩০.০৪.২০২২ তারিখের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক অভিভাবক সমিতির গঠন কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন