বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি যাচাই করতে নিয়মিতভাবে প্রান্তিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শুধু নম্বর প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখার মান ও শিক্ষকতার গুণগত মান নির্ধারণ করা।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও মানসম্মত করবে। নিচে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো 👇
📝 উত্তরপত্র মূল্যায়ন নির্দেশনা (তারিখ: ১৯/১০/২০২৫ খ্রিঃ)
১। প্রথমেই প্রতিটি প্রশ্ন ভালভাবে পড়তে হবে। প্রশ্নে কী চাওয়া হয়েছে তা ভালভাবে বুঝতে হবে। কোথাও কোন অস্পষ্টতা থাকলে বিষয় শিক্ষকের মতামত নিতে হবে।
২। উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী উত্তরপত্র মূল্যায়নের পূর্বে ভালভাবে উত্তরপত্র পড়বেন। অতঃপর মনোযোগ সহকারে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন। ৩। একটি উত্তরপত্র একজন মার্কার / উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী মূল্যায়ন করবেন।
৪। উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে অবশ্যই নিজস্ব মেধা, প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও বিবেক খাটিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হবে।
৫। প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে কত নম্বর রয়েছে তা ভালভাবে দেখে নিতে হবে।
৬। মূল্যায়নের জন্য লাল কালির বলপেন ব্যবহার করতে হবে এবং পৃষ্ঠার বাম দিকে (বর্ডারে) নম্বর প্রদান হবে।
৭। ভুল উত্তরের জন্য শিক্ষার্থীকে কোন নম্বর প্রদান করা যাবে না।
৮। বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে প্রতি চারটি ভুল বানানের জন্য ১ (এক) নম্বর করে কাটা যাবে।
৯। হাতের লেখা পড়তে না পারলে কোন নম্বর দেয়া যাবে না।
১০। হাতের লেখা ভাল-মন্দের কারণে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোন রকম হেরফের করা যাবে না।
১১। নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোনরূপ কাটা-কাটি / ঘষা-মাজা / ওভার রাইটিং করা যাবে না।
১২। প্রদত্ত নম্বর কোন কারণে সংশোধনের প্রয়োজন হলে একটানে কেটে দিয়ে সঠিক নম্বরটি পার্শ্বে লিখে অনুস্বাক্ষর করতে হবে।
১৩। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে ।
১৪। উত্তরপত্র থেকে নম্বরপত্রে নম্বর তোলার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কোনরূপ ভুল না ।
১৫। নম্বরফর্দে কোনরূপ ঘষা-মাজা / কাটা-কাটি/ওভার রাইটিং করা যাবে না। তবে নম্বর তোলার ক্ষেত্রে কোন ভুল হলে তা একটানে কেটে দিয়ে সঠিক নম্বরটি পাশে লিখে অনুস্বাক্ষর করতে হবে।
১৬। প্রতিটি নম্বর ফর্নে মূল্যায়নকারীকে স্বাক্ষর ও সীল (থাকলে) দিতে হবে।
১৭। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় মূল্যায়নকারীকে ইংরেজিতে নম্বর প্রদান করতে হবে এবং নম্বর ফর্দে ইংরেজিতে নম্বর তুলতে হবে।
১৮। গাণিতিক সমস্যা সমাধানে পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ অনুসরণযোগ্য। তবে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে সঠিক সমস্যা সমাধানেও পরীক্ষার্থী নির্ধারিত নম্বর প্রাপ্য হবে।
১৯। পরীক্ষার্থীর কোনো প্রশ্নের মূল্যায়নে (শূন্য) নম্বর প্রদান করার পূর্বে ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে।
২০। কোনো পরীক্ষার্থী কোনো প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ভুলক্রমে না লিখলেও সঠিক উত্তরের জন্য তাকে প্রযোজ্য নম্বর প্রদান করতে হবে।
২১ প্রশ্নপত্রের মুদ্রণজনিত ত্রুটির জন্য শিক্ষার্থীর সমাধান ভিন্নরকম কিন্তু সঠিক এবং যৌক্তিক হলে নির্ধারিত নম্বর পাবে।
🎯 মূল্যায়নে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নির্দেশনাগুলোর উদ্দেশ্য
- এই নির্দেশনাগুলো মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দিয়েছে:
- ন্যায়সংগত মূল্যায়ন: যেন কোনো শিক্ষার্থী অবিচার না পায়।
- স্বচ্ছতা: মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যেন কোনো অনিয়ম না ঘটে।
- গোপনীয়তা: পরীক্ষার্থীর পরিচয় বা নম্বর যেন বাইরে ফাঁস না হয়।
📚 উপসংহার
তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে শিক্ষকরা আরও নিরপেক্ষ, মনোযোগী ও দক্ষতার সাথে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়নই একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। তাই প্রত্যেক মূল্যায়নকারী শিক্ষককে এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
