৫০ এর কম ও ৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ

৫০ এর কম ও ৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ


বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং মানোন্নয়নের জন্য সরকার সবসময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ৫০ জনের কম এবং ৫০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো— বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করা।

নীচে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরা হলো—

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশিত পদক্ষেপসমূহ

ক) ৫০ এর কম ও ৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

খ) ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় শিশু জরিপ করে কোন শিশু কোন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং যারা কোন প্রতিষ্ঠানেই যাচ্ছে না তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

গ) ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় অভিভাবকদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ আয়োজন করতে হবে।

ঘ) স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, বাজারে মাইকিং করে শিক্ষার গুরুত্ব প্রচার করতে হবে যাতে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠাতে উৎসাহিত হন।

ঙ) নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা এবং অভিভাবকদের ধন্যবাদ ও প্রশংসাপত্র প্রদান করতে হবে।

চ) ৫০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি সম্ভব না হলে বিদ্যালয়টি কিভাবে অন্য বিদ্যালয়ের সাথে একীভূত করা যায় সে বিষয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।

হ) ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জ) বিভিন্ন জাতীয় দিবসে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

ঝ) স্লিপ কার্যক্রমে অভিভাবকদের পরিকল্পনা ও মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


কেন এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

👉 বাংলাদেশে এখনো অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এর ফলে শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়গুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় না।

👉 অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত উপস্থিতি শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

👉 ছোট আকারের বিদ্যালয়গুলো একীভূত হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে

👉 স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা ও অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো— শিক্ষা বিস্তারে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং শিক্ষার আলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ
৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী বিশিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন